কুড়িগ্রাম, উলিপুর উপজেলার তিস্তার প্রবল স্রোত্ধারার কারণে নৌকাডুবি আটজনের নিখোঁজ।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাবার কারণে প্রবল স্রোতের বেগে কুড়িগ্রামের উলিপুরের সাদুয়া দামেরহাট এলাকায় তিস্তা নদীতে ২৬ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৭ জন জীবিত উদ্ধার হলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। আরও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে শরীফা বেগম (৩৫) বলেন, আমরা সবাই আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াত খেয়ে ফিরছিলাম। নয়শএকর এলাকায় সোলার প্যানেল এরিয়ায় পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পরে নৌকাটি। পরে ঘূর্ণিপাকে পড়ে মুহূর্তেই ডুবে যায় নৌকাটি। সাঁতরে
স্থানীয়রা জানান, বজরা ইউনিয়নের পশ্চিম বজরা খামার ধামারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছের খেয়াঘাট এলাকা থেকে খামার ধামারহাট এলাকার জয়নাল আবেদীনের পরিবার ও তাদের আত্নীয়স্বজন মিলে মোট ২৬ জন ব্যক্তি একটি নৌকায় উঠে। তাঁরা তিস্তার ওপারে রংপুর পীরগাছা উপজেলায় আলীবাবা থিম পার্ক এলাকায় জয়নাল আবেদীনের ছেলের শ্বশুরবাড়ীতে ঈদ পরবর্তী দাওয়াত খাইতে যাচ্ছিল। কিন্তু নৌকাটি ঘাট থেকে ছেড়ে দেওয়ার কিছুদূরের মধ্যেই তিস্তার প্রবল স্রোতে উল্টে যায়। এসময় কয়েকজন সাঁতরে এবং কয়েকজনকে স্থানীয়রা নৌকায় করে উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারে নামে।
এসময় নদী থেকে উদ্ধার নয়জনকে হাসপাতেল পাঠানো হয় এবং একজন দুই বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম আয়শা (২)। উলিপুর ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন ইনচার্জ মো.আব্বাস উদ্দিন বলেন,নৌকাডুবির ঘটনা শোনার পর আমরা উদ্ধার অভিযান শুরু করি। মোট ২৬ জন যাত্রীর মধ্যে শুরুতে ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে ১ জন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৮ জন নিখোঁজ রয়েছে। উলিপুর থানার ওসি গোলাম মর্তুজা জানান,তিস্তায় প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে।