September 21, 2026, 5:30 am
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে শরৎ উৎসব-২০২৬ উপলক্ষে ললিতকলা একাডেমী আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক অনুষ্ঠিত হয়। মহেশ খালীতে ফয়সাল হত্যা চাঞ্চল্যকর ঘটনায় থানায় মামলা। সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে ১ দিনের প্রশিক্ষণ, সনদ বিতরণ ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে নগদ টাকাসহ ০৪ জুয়াড়ি গ্রেফতার। ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের তৎপরতায় ৭৬ পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদককারবারি গ্রেফতার। ভূরুঙ্গামারীতে বাগভান্ডার বিজিবি কতৃক ৭ বস্তা সার আটক কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণসহ স্থায়ী ক্যাম্পাস দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সাধারণ জনগণের স্মারকলিপি। নাগেশ্বরীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই কাপড় জব্দ, মামলা দায়ের। কুড়িগ্রামে রঙ বদলের রাজনীতি: সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এখন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ভূরুঙ্গামারীতে ৮ শতক জমির বিরোধে সহিদুল কে হত্যা, সাঁরাশি অভিযানে ১৭ জন গ্রেপ্তার

জুনিয়রকে’ পিপি নিয়োগ দেওয়ায় কার্যালয় ভাঙচুর করলেন ‘সিনিয়র’ আইনজীবী

মোঃ আলমগীর হোসেন

জুনিয়রকে’ পিপি নিয়োগ দেওয়ায় কার্যালয় ভাঙচুর করলেন ‘সিনিয়র’ আইনজীবী

বিএনপি সমর্থিত কুড়িগ্রাম জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদকে জেলা দায়রা ও জজ আদালতের নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সকালে এ খবর জানাজানি হলে দুপুরে আইনজীবী ভবনে নতুন পিপি বজলুর রশিদের কার্যালয় ভাঙচুর করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ও নতুন পিপির এক সময়ের সিনিয়র মো. ফখরুল ইসলাম এবং সমর্থকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সদর থানা পুলিশ।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগের উপ-সলিসিটর সানা মো. মাহরুফ হোসাইন স্বাক্ষরিত আদেশে বজলুর রশিদকে জেলা দায়রা ও জজ আদালতের পিপি এবং মো. মিজানুর রহমান সরকারকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি নিয়োগ দেওয়া হয়। একই আদেশে মো. ফখরুল ইসলামকে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিষয়টি বজলুর রশিদ ও ফখরুল ইসলাম উভয়ে নিশ্চিত করেছেন। তবে নিয়োগ আদেশটি মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা।

বজলুর রশিদকে নতুন পিপি নিয়োগের খবরে মঙ্গলবার দুপুরে সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন ফখরুল ইসলাম। বেলা আড়াইটার দিকে তিনি তার কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে আইনজীবী ভবনে নতুন পিপি বজলুর রশিদের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। তার টেবিল বাইরে বের করে ফেলে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এ বিষয়ে নবনিযুক্ত পিপি বজলুর রশিদ বলেন, ‘আজ নিয়োগ আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর আমি আমার নেতাকর্মী ও সহকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছিলাম। দুপুরে ফখরুল ইসলাম আকস্মিক আরও কয়েকজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে আমার কার্যালয় ভাঙচুর করেন। তার সঙ্গে অ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম, আশরাফ আলী ও আলতাফুরসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। তারা আমার টেবিল ভাঙচুর করে বাইরে ফেলে দেন। এটা কোনও সভ্য আচরণ হতে পারে না। আমি এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবো।’

সিনিয়রের এমন আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করে পিপি বলেন, ‘এর আগেও ফখরুল ইসলাম অনেক বিচারককে অপদস্থ করেছেন। আজও কোর্টে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে অপদস্থ করেছেন। এভাবে চলতে পারে না।’

ফখরুল ইসলামের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি ও সিনিয়র আইনজীবী আমীর উদ্দিন বলেন, ‘এটা হতে পারে না। উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে, আইনজীবীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে; এটা হয় নাকি।’

জেলা বারের আরেক অ্যাডভোকেট রাকিব রহমান বলেন, ‘তিনিও (ফখরুল ইসলাম) পিপি নিয়োগ প্রত্যাশী ছিলেন। সরকার যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকে পিপি নিয়োগ দিয়েছে। তিনি বঞ্চিত হওয়ায় নতুন পিপির কার্যালয় ভাঙচুর করেছেন। কুড়িগ্রাম বারে এটি নজিরবিহীন। এটি কোনও সভ্য আচরণ হতে পারে না। আমরা এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফখরুল ইসলাম নতুন পিপি বজলুর রশিদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমনকি নিয়োগ কর্তৃপক্ষের যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই আইনজীবী।

তিনি বলেন, ‘কিছু হাইব্রিড ও ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা অনৈতিক নিয়োগ। যারা নিয়োগ পেয়েছে তারা গরুর বাছুর বিক্রি করেছে। অনেক মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেনের বিনিময়ে যাদের পিপি-জিপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর। আমরা তথাকথিত এই পিপি-জিপিদের আদালত পাড়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। একইসঙ্গে আমরা এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম যোগ্যতা নেই এমন ব্যক্তিকে পিপি করা হয়েছে, সে দায়রা আদালতে একটা মামলা ট্রাইল করেছে এমন কোনও নজির নেই। সারা কুড়িগ্রাম খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন অযোগ্য ব্যক্তিকে পিপি করায় কুড়িগ্রামের বিচারব্যবস্থার মুখ থুবড়ে পড়বে। মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। আমি কুড়িগ্রাম বারের দুবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। আমি আইন কলেজের শিক্ষক। বজলু আমার জুনিয়র। আমার অধীনে সে কাজ শুরু করেছিল। তাকে করছে পিপি আর আমাকে করছে অতিরিক্ত পিপি। এটার চেয়ে লজ্জার, এটার চেয়ে অবিবেচনা আর কী হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা