সরকারি আদেশ অমান্য করে কৃষি জমির উপর ইটভাটা ।
নিজস্ব প্রতিবেদক
মেসার্স হালিম মোল্লা ব্রিকস, দীর্ঘ ৮ বছরে কৃষি জমির ধষ নামিয়ে ব্যবসায় চাঙ্গা মুনাফ অর্জনের করেছেন নাগেশ্বরী উপজেলার নেওয়াশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বেরুয়া ব্রিজ সংলগ্ন এই ইটভাটার মালিক মোঃ হালিম মোল্লা।
গত ২৫-১১-২০২৪ ইং তারিখ আনুমানিক ৫০ টি গাছের গুড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মন খড়ি বানিয়ে এই গ্রাম বাংলার গাছ ও কৃষি জমের ধষ নামিয়ে ভাটাটিতে আগুন দিয়ে ভাটার কাজ শুরু করেন। নাম বলতে নারাজ কিছু স্থানীয় সম্মানিত কৃষক বলেন, আমাদের বাপ দাদার চৌদ্দ পুরুষ হতে আমরা রীতিমতো এই কৃষি জমি সুন্দরভাবে চাষ করে আছি। আমাদের এলাকায় যে জমিতে বছরে তিনবার ফসল ফলে সেই জমিতে ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি জমি প্রকৃত কৃষি আবাদি জমি।
এই ইটভাটার কালো ধোঁয়া, ধান ছিটা হচ্ছে ,গাছের ফল পূর্বের ন্যায় আসে না ইটভার্টার কালো ধোয়া, ছাই, ইটের গুড়া এবং ভাটার ধুলি বালি বাতাসে মিশে কৃষি জমি ফসল ও গাছপালা নষ্ট করে ফেলছে ফলে আমরা ক্ষতি সম্মুখীন হচ্ছি। তাই কৃষি জমি থেকে দ্রুত ব ইটভাটাটি সরিয়ে নেওয়া দাবি জানাচ্ছি।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ৫ নং ধারায় বলা আছে কৃষি জমি পাহাড় ও টিলার মাটি কেটে ইট তৈরি করা যাবে না। ওই আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে জ্বালানি কার্ড ব্যবহার করে ইট পোড়ানো যাবে না। এ ছাড়া এই আইনে ৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে আবাসিক সংরক্ষিত ও বাণিজ্যিক এলাকা সিটি কর্পোরেশন পৌরসভা ও সদর উপজেলা সরকারি বা মালিকানাধীন বন অভয়ারণ্য বাগান বাজার জলাভূমি কৃষি জমি পরিবেশগত সংগঠন এলাকায় ইটের ভাটা স্থাপন করা যাবে না। অথচ এই আইন লঙ্ঘন করে ফসলি জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্বিঘ্নে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। জানা যায় পরিবেশগত কাগজ লাইসেন্স নবায়ন ভ্যাট, ট্যাক্স ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি ছাড়া তিনি প্রতিবারের ন্যায় এবারও ভাটা চালু করেছেন। আরো জানা যায় তিনি কিছু কিছু অফিসে তেল মেরে এসব কাগজপত্র ছাড়া ভাঁটা চালান।
স্থানীয় সাধারণ জনগণ বলেন এই হালিম মোল্লা কৃষকদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে জমি বর্গা নিয়ে কৃষি জমির উপর ভাটা নির্মাণ করে কৃষকদের বুঝানো হয়েছে তোমাদের জমি চাওয়া মাত্র দেওয়া হবে। বাজারে ধান সবজি মূল্য অনেক বেশি কিন্তু লোভ দেখিয়ে জমি নিয়ে তাদেরকেও এই ইটভাটার ফাঁদে ফেলেছেন সঠিক মূল্য দেয় না, এই হালিম মোল্লা।
স্থানীয় গরিব শ্রমিকদেরও এই হালিম মোল্লার উপর অনেক অভিযোগ রয়েছে গরীব খেটে খাওয়া মানুষ তার উপর কোন প্রকার কথা বলতে পারেন না। অন্যদিকে অন্যান্যভাটার শ্রমিকদের তুলনায় তারা ন্যায্য মূল্য পান না। টাকা বাড়িয়ে চাইলে তোমাকে এখানে আসতে হবে না, মুখের উপর সাপ বলে দেয়। খেটে খাওয়া মানুষ হঠাৎ করে কোথায় যায়। নিরুপায় হয়ে ওইখানে কাজ করে এ ধরনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে তার উপর।
স্থানীয় মানুষ আরো বলেন, একজন মানুষ যখন হজ্ব করেন তখন আমরা ভাবি এই মানুষটি নিঃসন্দেহে ভালো কিন্তু না এর মধ্যে কিছু মানুষ নামমাত্র হাজী কাজে নয় । কম খরচে তিনি ইট তোলার কাজে শিশুদেরকে কাজে লাগিয়ে থাকেন এ ধরনের অভিযোগ আছে। ছোট শিশুদের টাকার লোভে ফেলে তাদের লেখা পড়া থেকে অনেক শিশুদের বঞ্চিত করেছেন। এই ভাটার চৌহদ্দি -এই ভাটর পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ,দক্ষিণ দেখে সংলগ্ন ২০০ ফিটের পরে পূর্ব থেকে হাজারো জন বসতি বসবাস করে আসছে। হাজারো জনবসতি থাকলেও কেউ তাকে কিছু বলতে পারেনা। টাকা পয়সা ওয়ালা মানুষ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য-তার পারমিশন ছাড়া তার ভাটাতে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। তার এটা বাণিজ্যিক এলাকা । তার এই ভাটায় কোন সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবে না তার এটা নির্দেশ। নাম বলতে নারাজ ভাবে জানা যায় সর্বনিম্নমানের কয়লার সাথে বিভিন্ন প্লাস্টিক কারখানার প্লাস্টিক ঝুট, কাপড়ের ঝুট, কাঠের গুড়া ইত্যাদি সংমিশ্রণে বায়ু দূষণ ও গন্ধ ছড়ায় এতে এলাকার অনেক শিশু বাচ্চা অসুস্থ হয়। দৃশ্যমান ছবি ও ভিডিও রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি এই ভাটাটি সরিয়ে নেওয়া হলে এই এলাকার মানুষ কৃষি আবাদি জমি গাছপালা ইত্যাদি বেঁচে যাবে বলে জানান।