কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণসহ স্থায়ী ক্যাম্পাস দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সাধারণ জনগণের স্মারকলিপি।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৪/৮/২৬ ইং
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্বাচনের জন্য জেলা প্রশাসন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইউজিসির উচ্চ পর্যয়ের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত টিম কুড়িগ্রাম সদরের নালিয়ার দোলা, টগরাই হাট এবং দাসেরহাটে ছড়া কয়েকবার সরে জমিনে পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত যাচাই করেন। ভৌগলিক সুবিধা উপযুক্তিতা ও সার্বিক পরিচিতি বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইউজিসি জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ও মোগলবাসা ইউনিয়নের (সড়ক রেল সমন্বিত এলাকায় হিসেবে) নালিয়ার দোলার ২৫০ একর জমিকেই (সম্পূর্ণ ফাঁকা জায়গা) কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
তিনটি স্থানের মধ্যে টগরাই হাট ও দাসের হাটের প্রস্তাবক ছিলেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নালিয়ার দোলার পক্ষে ছিল কিছু সাধারণ মানুষ।
পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অসত্য তথ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। ফলে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম আবারও পরিদর্শন করে নালিয়ার দোলাকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও নালিয়ার দোলাকেই স্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এখনো তা বলবৎ আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মনোনীত জায়গায় না হওয়ায় তারা স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে আর্থিক বরাদ্দের প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করায় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ আর এগোয়িনি।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, বরাবর প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার পর ও আবারও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গত মে/২০২৬ মাসেও ধরলা ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি স্থানে ক্যাম্পাস স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় জনগণ তার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কারণ সেখানে ক্যাম্পাস করলে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টি নদী ভাঙ্গন কবলিত নিঃস্ব পরিবারের বসতভিটা উচ্ছেদের কারণ সৃষ্টি হতো। উল্লেখিত স্থানে বাধা প্রাপ্ত হওয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমর্থিত বাতিলকৃত দাসেরহাট কাঁঠাল বাড়ি হলোখানা এলাকায় ক্যাম্পাস নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। আবারো গত ০৯/০৮/ ২০২৬ ইং তারিখ ইউজিসি থেকে একটি পত্রে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান নির্ধারণের দাসেরহাট নালিয়ার দোলা এবং রাজারহাট উপজেলার সিনাইয়ের তথ্য চাওয়া হয়েছে । যা দীর্ঘ ৪ বছরেও ছিনাইয়ের নাম কখনও শোনা যায়নি।
এমতাবস্থায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সংশয় ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে যে, তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যে জায়গা নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বর্তমান নেতৃত্ব কিভাবে সেখানেই অন্য একটি জেলার সন্নিকটে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যেতে চাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, দাসেরহাটে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যাওয়া হলে তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উভয়ের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও তার উক্ত ইউনিয়নের কয়েক ট্রাম ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তারা উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে পালন করেন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল হবে এবং ছিনিয়ে নেওয়া হলে অন্য একটি জেলা উপকৃত হবে ফলে পিছিয়ে থাকা জেলা কুড়িগ্রাম আরও পিছিয়ে পড়বে।
এভাবে বারবার স্থান পরিবর্তন এর চেষ্টায় কুড়িগ্রামের একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম থমকে যাচ্ছে পিছিয়ে পড়ছে কৃষি প্রধান একটি সীমান্ত ব্যষ্টিক জেলা সার্বিক উন্নয়ন ও সম্ভাবনা। স্থানীয় প্রশাসন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকারের যে কোন নিরপেক্ষ তদারকি টিমের অনুসন্ধানেই নালিয়ার দোলার ভৌগোলিক উপযুক্ততা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের শতভাগ সত্যতা সব সময় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে খন্দকার মোহাম্মদ আলী সম্রাট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন, যাতে করে কুড়িগ্রামের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মানবিক দিক বিবেচনা করে পূর্বে অনুমোদিত সিদ্ধান্তের আলোকে নালিয়ার দোলায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর অবকাঠামো নির্মাণ সহ স্থায়ী ক্যাম্পাস দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন, জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের কপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন কপি সহ এর যাবতীয় লিপিবদ্ধ করে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মারফত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।