কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম কর্তৃক জেলায় কৃষকদের মাঝে *উচ্চ ফলনশীল রোপা আমন* ধান বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৯/৬/২৫
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রাম জেলায়ও কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে উচ্চ ফলনশীল রোপা আমন ধান বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, কৃষির সম্প্রসারণ এর লক্ষ্যে উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ ও সার ১৮ হাজার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ২৩-৬-২০২৫ ইং তারিখ থেকে ৩০-৬-২০২৫ ইং তারিখের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় যথাক্রমে সদর উপজেলায় ২৪০০ জন, রাজারহাটে ১৮০০ জন, উলিপুরে ২৫৫০ জন, চিলমারীতে ১৮০০ জন, নাগেশ্বরীতে ২৪৫০ জন, রৌমারীতে ২০৫০ জন, রাজিবপুরে ৭৫০ জন, ভুরুঙ্গামারীতে ২৪৫০ জন, এবং ফুলবাড়ীতে ১৬৫০ জন কৃষকদের মাঝে বিতরণ শেষ হবে বলে জানা যায়।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন কুড়িগ্রাম জেলায় ৫ লক্ষ ৮ হাজার ৪৯৩ জন কৃষকের মধ্যে ১৮ হাজার কৃষকের মাঝে ৫ কেজি উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ ও ২০ কেজি সার ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি বিতরণ করা হচ্ছে এবং তা ৩০/৬/২০২৫ ইং তারিখের মাঝে বিতরণ শেষ করা হবে।
এই ধান বীজ ও সার নিয়ে কৃষকের মাঝে কথা হলে তারা বলেন, এই উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ ও সার সঠিক সময় সকল কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে পারলে এর ফলাফল অনেকগুণ বাড়িয়ে যাবে এতে দেশ ও জনগণের চাহিদা পূরণ হবে বিদেশেও রপ্তানি করতে সম্ভব হবে।
এ প্রসঙ্গে জনাব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, আহ্বায়ক জেলা বিএনপি কুড়িগ্রাম বলেন, আমরা কুড়িগ্রাম জেলার মানুষ সব সময় অবহেলিত গত ১৭ টি বছর কুড়িগ্রাম জেলার মানুষের জন্য বা জেলার উন্নয়নের জন্য বলা কওয়ার কোন একটি লোক পাইনি। যা এসেছে সব পেট পূজারী হয়েছে।অন্যান্য জেলার তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। তাই আর নয় অন্যান্য জেলার ন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন চাই। কৃষি থেকে শুরু করে সবদিক দিয়েই উন্নয়ন চাই।
কুড়িগ্রাম জেলার কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জনাব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, কৃষক বাঁচলে আমরা বাঁচবো। কৃষকের উন্নয়ন দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন। তাই কৃষির উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা সর্বদা সোচ্চার। কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষকের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। তাই বৈষম্য নয় সঠিক বরাদ্দ পাইলে কুড়িগ্রাম জেলার আরো উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে করি।
কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলার আহ্বায়ক জনাব মোঃ আব্দুল আজিজ নাহিদ বলেন, আর নয় বৈষম্য আর নয় অবহেলা। অন্যান্য জেলার ন্যায় কুড়িগ্রাম জেলাও সম অধিকারী। তাই বৈষম্য নয় অধিকার চাই।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক কমিটি এনসিপি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী জনাব মোঃ মুকুল মিয়া বলেন, আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ। আমরা কৃষকের সন্তান, আমরা ফসল না ফলালে আমাদের পেটে ভাত যায় না। তাই কৃষকের উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি সরঞ্জামাদি থেকে শুরু করে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল কৃষি সহায়তা প্রদানে অন্যান্য জেলার ন্যায় কুড়িগ্রামে যেন কমতি না হয়। কৃষককে অবহেলা দৃষ্টিতে না দেখা হয়, তাই কৃষকের বিভিন্ন সময় ফসল ফলানোর সময় সরকারি যে সকল অনুদান রয়েছে তা অন্যান্য জেলার ন্যায় কুড়িগ্রামে ও সমপরিমাণে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে দৃষ্টিপাত করতে হবে।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারিভাবে কৃষকের মাঝে যে সকল ধান বীজ ও সার আসে তা আমরা সঠিক সময় সঠিকভাবে বিতরণ করি।
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের পাশে থেকে সহায়তার কথা বলেন, সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মোঃ মাহবুবুর রহমান।
অন্যদিকে সদর উপজেলার কৃষি অফিসার জনাব মোছাঃ নাহিদা আফরীন বলেন, সদর উপজেলায় ৬৮ হাজার ৩৯১ জন কৃষকের যে পরিমাণ বরাদ্দ আসে তা আমরা কৃষকের মাঝে বিতরণ করে, তা বাস্তবায়ন হলো কিনা তা পরিদর্শন করে কৃষকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা সর্বদা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন এবার রোপা আমন উচ্চ ফলনশীল ধান বীজ ২৪০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বিতরণ করা হয়েছে।